এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। এ সময় ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ ব্যাঘাত নিয়ে কিছুটা ঝুঁকিতে ছিল জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক বাজার। তবে তার প্রভাব কাটিয়ে উঠেছে এলএনজির মজুদ বৃদ্ধি ও নিম্নমুখী চাহিদা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ ডলার ২০ সেন্ট। এটি আগের সপ্তাহের এমএমবিটিইউ ১১ ডলার ১০ সেন্টের তুলনায় কিছুটা বেশি।
পণ্যবাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক গো কাতায়ামা বলেন, ‘উত্তর চীনে মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ঠাণ্ডা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজির চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে চীনে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন বেড়েছে। এছাড়া দেশটিতে মজুদও বেশি। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে সম্প্রতি এলএনজির চাহিদা কমেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে এশিয়ার স্পট মার্কেটে স্থিতিশীল ছিল এলএনজির দাম।’
তবে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর চীনে শীতকালীন বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির চাহিদা বাড়তে পারে। এছাড়া রুশ এলএনজির ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জ্বালানি পণ্যটির দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র জানান, জাপানে চলতি মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির চাহিদা বাড়তে পারে। কারণ তাপমাত্রা মৌসুমি গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমার পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত এলএনজি কেনার প্রবণতা দেখা যায়নি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানিয়েছে, নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম দাঁড়িয়েছে ১০ ডলার ৫৩ সেন্টে। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির তুলনায় প্রায় ৫৫ সেন্ট কম।
আর্গাস এ দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ ডলার ৫৫ সেন্ট। এ সময় স্পার্ক কমোডিটি প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৪২ সেন্ট।
কেপলারের কাতায়ামা বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেও এলএনজির দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে। পর্যাপ্ত এলএনজি ও পাইপলাইন সরবরাহ বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখবে। পাশাপাশি প্রবল বাতাসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ায় এলএনজির চাহিদা কমতে পারে। যদিও গড়ের তুলনায় কম তাপমাত্রা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এলএনজির বাজারদরে প্রভাব ফেলার আশঙ্কাও বেশি।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের আটলান্টিক এলএনজির ব্যবস্থাপক অ্যালি ব্লেকওয়ে বলেন, ‘গত দুই বছরের তুলনায় এ শীতে ইউরোপে কম মজুদ নিয়ে শীতকাল শুরু হয়েছে। তাই মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো রুশ সরবরাহের ঘাটতি পূরণে শীতকালীন মৌসুমে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা তৈরি করতে পারে।’
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে এলএনজি সরবরাহ বর্তমানে লাভজনক হয়ে উঠেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ কার্গো এখন এশিয়ামুখী।
তিনি আরো জানান, আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৩৪ হাজার ৫০০ ডলারে। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে নয় সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো পরিবহন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২৮ হাজার ২৫০ ডলারে।